কুরবানী সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা এবং কুরবানীর ফযীলত। বিস্তারিত জানুন।

কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায়  করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৩৫১৯; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব ২/১৫৫]

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন ও কুরবানি করুণ।’ [সুরা কাওসার : ২]

এ আয়াতে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ও কুরবানির পশু জবেহ করতে আদেশ করা হয়েছে। তাই রাসুলুল্লাহ সা. সারা জীবন কুরবানির ব্যাপারে অত্যন্ত যতœবান ছিলেন।
কুরবানি আল্লাহর মহান বিধান। বান্দা তাঁর প্রভুর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আদম আ. পুত্র হাবিল-কাবিল থেকে শুরু করে ইবরাহিম আ. পর্যন্ত প্রত্যেক নবীর উম্মতরাই বিভিন্ন পদ্ধতিতে কুরবানি করেছেন।    হযরত ইবরাহিম আ. কর্তৃক পুত্র কুরবানির পূর্ণ প্রচেষ্টায় আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হয়ে তদস্থলে পশু কুরবানির নির্দেশ দিয়েছেন। আর তখন থেকেই পশু কুরবানির বর্তমান নিয়মের সূচনা; যা অপরিবর্তিত ভাবেই আমাদের জন্যও বিধানসম্মত করা হয়েছে। এই কুরবানি করতে গিয়ে সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভিন্ন ভুল-ত্র“টি করে থাকি। এমনকি কুরবানির যে মূল উদ্দেশ্য “নিয়ত পরিশুদ্ধ করা” তাও অনেকেরই কাছে গুরুত্ত্বহীন হয়ে চক্ষুলজ্জা, লোকদেখানো ইত্যাদি প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-
‘আল্লাহর কাছে এদের (কুরবানির পশুর) গোশ্ত কিংবা রক্ত পৌঁছায় না; বরং তাঁর দরবারে তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছায়। [সুরা হজ্জ : আয়াত ৩৭]

 

কুরবানির ফজিলত

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- “রাসুলে কারিম সা. মদিনায় দশ বৎসর জীবন যাপন করেছেন সেখানে প্রত্যেক বৎসরই তিনি কুরবানি করেছেন”। [তিরমিযি] ২. হযরত জায়িদ ইবনে আরকাম রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-“রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! এই কুরবানিটা কী? রাসুলুল্লাহ সা. জবাব দিলেন, এটা তোমাদের পিতা হযরত ইবরাহিম আ. এর সুন্নাত বা আদর্শ। অতঃপর তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কি ফায়দা বা সাওয়াব রয়েছে হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। সাহাবীগণ আবার জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ভেড়া, দুম্বার পশমের ব্যপারে কি কথা? তিনি বললেন, এর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী পাওয়া যাবে”। [ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরিফ] ৩. হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- ‘মানুষের আমল সমূহ হতে কোন আমলই আল্লাহর নিকট কুরবানির দিন কুরবানি হতে অধিক পছন্দনীয় নয়, অবশ্যই কিয়ামতের দিন কুরবানির জানোয়ার শিং, লোম ও খুর নিয়ে উপস্থিত হবে। যে কুরবানি শুধু আল্লাহর জন্য করা হয়, নিশ্চয়ই সেই কুরবানির রক্ত জমিনে পতিত হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর দরবারে উহা কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা ভক্তি ও আন্তরিক আগ্রহ নিয়ে কুরবানি কর”। [তিরমিযি] ৪. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, নবী করিম সা. হযরত ফাতেমা রা. কে বললেন, ফাতেমা! এসো তোমার কুরবানির পশুর কাছে দাঁড়িয়ে থাক। এ জন্য যে, তার যে রক্তটা মাটিতে পড়বে তার বদলায় আল্লাহ তোমার পূর্বের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন। হযরত ফাতেমা রা. বলেন, এ সুসংবাদ কি আহলে বায়আতের জন্য নির্দিষ্ট, না সকল উম্মতের জন্যে? নবী করিম সা. বললেন, আমাদের আহলে বায়আতের জন্যেও এবং সকল উম্মতের জন্যেও। [জামেউল ফাওয়ায়েদ, আসান ফিকাহ] ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.